1
1
সুমিত দে, কলকাতা:
বংশগত বিরল রোগ প্রতিরোধে বড়সড় সাফল্যের পথে হাঁটছে Kolkata Municipal Corporation। শহরের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগে জিনগত ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ ও ‘জেনেটিক কাউন্সেলিং’-এর মাধ্যমে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা। ‘কল্যাণ নিরূপণ যোজনা’ নামের এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এই উদ্যোগে পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে Organization for Rare Diseases India এবং Rare Warriors of Bengal Association। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিন বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই প্রকল্পটি কার্যকর হয়।
সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ১১,৩০০-র বেশি পরিবারের স্বাস্থ্যতথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সমীক্ষায়—
৭২টি পরিবারকে ‘উচ্চ জেনেটিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১১ জনের শরীরে বিরল রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
তবে সব থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য, উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দু’টি পরিবারকে সময়মতো পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ায় তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পেরেছেন।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা
এই প্রকল্পের মেরুদণ্ড আশা কর্মী ও পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের শেখানো হয়েছে—
কোন লক্ষণে জিনগত রোগের সন্দেহ করতে হবে
কীভাবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করতে হবে
যোগাযোগ ব্যবস্থাও আধুনিক করা হয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে দ্রুত পরামর্শের জন্য চালু হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চিকিৎসকদের মতে, বিরল রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল রোগ নির্ণয়ে দেরি। অনেক সময় সঠিক পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসার সুযোগ কমে যায়। পুরসভার এই উদ্যোগ সেই ব্যবধান কমিয়ে আগাম প্রতিরোধের পথে বড় পদক্ষেপ।
ভবিষ্যতে প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নবজাতকদের শ্রবণ পরীক্ষা এবং বংশগত চোখের রোগ শনাক্তকরণের মতো আধুনিক পরিষেবা যুক্ত করার ভাবনাও রয়েছে প্রশাসনের।
সব মিলিয়ে, বিরল জিনগত রোগ মোকাবিলায় কলকাতা এখন দেশের সামনে এক কার্যকর ও মানবিক জনস্বাস্থ্য মডেল তুলে