Popular Posts

বাংলার ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর অধিকার রক্ষায় ধর্নামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সুমিত দে, কলকাতা:বাংলার মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। SIR তালিকা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। ধর্নামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী।
শুক্রবার দুপুরে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী সুজিত বসু-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। ধর্নামঞ্চে বসেই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, SIR তালিকা প্রকাশের পর বহু মানুষের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছে, আবার অনেক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে। এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক জ্যান্ত মানুষকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। আমরা বাংলার মা-মাটি-মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছি এবং এই লড়াই চলবে।”
ধর্নামঞ্চে একাধিক ভুক্তভোগীকেও সামনে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রামকৃষ্ণ সারদা মিশন-এর এক সন্ন্যাসী, যিনি দাবি করেন—দীর্ঘদিন ধরে একটি মিশনের প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নাম SIR তালিকায় নেই। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন,
“১৪ বছর ধরে মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছি। অথচ আমার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে দেশের অবস্থা খুব খারাপ হবে।”
সন্ন্যাসীর বক্তব্যের সময় পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে নথিপত্র দেখাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনে এমন বহু মানুষকে সামনে আনা হবে, যাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও তালিকায় মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে প্রায় ৬৩ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও লক্ষাধিক নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ধর্না কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।


এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলার বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না অবশ্য নতুন নয়। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে এখানেই অনশন করেছিলেন তিনি। আবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে এই স্থানকে প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
তবে এই ধর্না কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটের আগে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্যই এই আন্দোলন করছে তৃণমূল। যদিও তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।
ধর্নামঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন—
“বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে। যতদিন না অন্যায় বন্ধ হচ্ছে, ততদিন আমাদের আন্দোলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *