1
1
সুমিত দে,কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠক রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৈঠকে মহিলা ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয় তৃণমূল প্রতিনিধিদল। শাসকদলের দাবি, সেই প্রশ্নের মুখেই মেজাজ হারান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
সোমবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমার। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে মহিলা ভোটারদের ওপর।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধিরা জানতে চান, ভোটার তালিকা থেকে ‘রোহিঙ্গা’ বা অবৈধ ভোটার বাদ দেওয়ার যে দাবি আগে তোলা হয়েছিল, বাস্তবে সেই ধরনের ভোটার কোথায় পাওয়া গেল। তৃণমূলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন নিজেই এমন কোনও ভোটারের অস্তিত্ব দেখাতে পারেনি, তবুও বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
দলের দাবি, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬৩ লক্ষ এবং পরে আরও প্রায় ৬০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার সামিল।
মহিলা ভোটার কমার অভিযোগ
তৃণমূল প্রতিনিধিরা কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় নতুন তালিকায় পুরুষ ও মহিলা ভোটারের অনুপাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে বহু মহিলার ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

উত্তপ্ত মুহূর্ত বৈঠকে
তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’-র আওতায় কীভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে চিহ্নিত করা হল— এই প্রশ্ন উঠতেই বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তৃণমূলের দাবি, কমিশনের পদক্ষেপকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করায় কমিশনের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে বৈঠকে।
তৃণমূলের অবস্থান
বৈঠক শেষে তৃণমূল প্রতিনিধিরা জানান, রাজ্যের মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনের দফা ঘোষণার আগেই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত অসঙ্গতি দূর করার দাবি জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।