1
1
সুমিত দে,কলকাতা: মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীর পুণ্যলগ্নে পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। এই উপলক্ষে বিশ্বের সকল সাধু, গোঁসাই, দলপতি ও মতুয়াভক্তদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণাকে সম্মানের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিজের বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাতে কাম, মুখে নাম’ মন্ত্রের মাধ্যমে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর কর্ম ও ভক্তির সমন্বয়ের শিক্ষা দিয়েছিলেন। শোষিত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। মতুয়া সম্প্রদায়ের আত্মিক ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর দেখানো পথ আজও সমাজকে আলোর দিশা দেখাচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মতুয়া সমাজের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়ির নিকটে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কৃষ্ণনগরে তার এক্সটেনশন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলছে। গাইঘাটায় পি.আর. ঠাকুর সরকারি কলেজ, নতুন আইটিআই ও পলিটেকনিক কলেজ এবং কিষাণ মান্ডি গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পানীয় জলের সুবিধার জন্য হাবড়া-গাইঘাটা ‘জলতৃপ্তি’ প্রকল্প চালু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া ইছামতী নদীর উপর মুড়িঘাটা সেতু এবং বলদেঘাটা খালের উপর কুঠিপাড়া নাগবাড়ি সেতু নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ঠাকুরনগরের ফুলবাজার ও ফুলচাষীদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এলাকাকে পরিকাঠামোগতভাবে উন্নত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, অসামান্য সামাজিক অবদানের জন্য ‘বড়মা’-কে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করেছে রাজ্য সরকার।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মানুষের নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মতুয়া সম্প্রদায়সহ বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বার্তার শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার মাটিতে মানুষের অধিকার নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং মতুয়া সমাজের পাশে রাজ্য সরকার সবসময় থাকবে।