1
1
সুমিত দে, কলকাতা:
ভোট ঘোষণার পর থেকেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কলকাতা পুলিশের নগরপালসহ কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা শহর ও শহরতলি জুড়ে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় নাকা চেকিং, রুট মার্চ এবং নিয়মিত টহলদারি চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভোট ঘোষণা হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শীর্ষস্তর থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত একাধিক প্রশাসনিক রদবদল হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন করার দায়িত্ব মূলত পুলিশের উপরেই বর্তেছে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছেন।

বিধাননগরে কমিশনারের পরিদর্শন
বিধাননগর পুলিশ কমিশনার Murlidhar Sharma বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ছয় দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিংসামুক্ত ভোট নিশ্চিত করা, ভোটারদের ভয়ভীতি থেকে মুক্ত রাখা, বুথ দখল বা বুথ জ্যামিং রোধ, উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি এবং ভুয়ো ভোটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি।
বারুইপুরে ডিআইজির তৎপরতা
বারুইপুরে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ডিআইজি কঙ্করপ্রসাদ। তিনি জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত করণীয় সম্পর্কে অফিসার থেকে হোমগার্ড—সব স্তরের পুলিশ কর্মীদের ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর হয় এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।

বসিরহাটে প্রেস মিট
বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার অলকানন্দা ভাওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে দ্রুত জানাতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাঁকুড়ায় থানাভিত্তিক পরিদর্শন
অন্যদিকে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জেলার প্রতিটি থানা পরিদর্শন শুরু করেছেন। সদর থানায় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি জানান, স্পর্শকাতর বুথ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটার চিহ্নিতকরণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারিও নিয়ম মেনে চালানো হচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ছাড়াই যাতে সাধারণ মানুষ অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই এবারের নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রধান লক্ষ্য।