1
1
সুমিত দে, কলকাতা:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার বিকেলে প্রকাশিত হতে চলেছে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। রবিবার শিপিং কর্পোরেশন ভবনে বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে এই তথ্য জানান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal। তিনি স্পষ্ট করেন, যাঁদের নথি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে, শুধুমাত্র তাঁদের নামই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম তালিকা প্রকাশের পর থেকে প্রতি শুক্রবার ধারাবাহিকভাবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নথি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দু’লক্ষ নাম যাচাই করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
আপিলের সুযোগ অনলাইন ও অফলাইনে
তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের জন্য আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ECI-NET অ্যাপ বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অফলাইনে আবেদন জানাতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।

বুথভিত্তিক প্রস্তুতি জোরদার
সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে জেলাশাসকদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের মোট প্রায় ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি বুথের জন্য ইতিমধ্যেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রস্তুত। তালিকা প্রকাশের পর তা সংশ্লিষ্ট বুথে টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোট প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৮ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি অংশের যাচাই প্রক্রিয়াও দ্রুতগতিতে চলছে।
ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম পরিষেবা বাধ্যতামূলক
আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রতিটি বুথে ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে—
পানীয় জলের ব্যবস্থা
ছাউনি ও অপেক্ষার জায়গা
শৌচালয়
পর্যাপ্ত আলো
বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য র্যাম্প
দীর্ঘ লাইনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসার ব্যবস্থা

ভোটার সচেতনতা ও সহায়তা
প্রতিটি বুথে চার ধরনের সচেতনতামূলক পোস্টার টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেখানে প্রার্থীদের তালিকা, ভোটদানের নিয়ম, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র এবং করণীয়-বর্জনীয় বিষয় উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সহায়তা বুথ গড়ে তোলা হবে, যেখানে বুথ লেভেল অফিসাররা ভোটারদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন।
মোবাইল জমা রাখার নতুন ব্যবস্থা
ভোটারদের সুবিধার্থে বুথের বাইরে মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থাও চালু করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। ভোটাররা ফোন জমা দিয়ে ভোট দেওয়ার পর তা ফেরত নিতে পারবেন।
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে নির্বাচন প্রশাসন।