Popular Posts

গড়িয়ায় পার্লারে নৃশংস খুন, অভিযুক্তের আত্মঘাতী হওয়া নিয়ে চাঞ্চল্য — ফেসবুক সূত্রে পরিচয়ের প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত পরিণতি

সুমিত দে,কলকাতা:
দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া এলাকায় দিনের আলোয় একটি বিউটি পার্লারের ভিতরে নৃশংস খুন ও আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তেঁতুলতলা এলাকায় নিজের পার্লারের ভিতর খুন হন রূপবাণী দাস (৫০)। অভিযোগ, তাঁকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুন করার পর অভিযুক্ত যুবক নিজেও আত্মঘাতী হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি প্রেমঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
ফেসবুক থেকে পরিচয়, সম্পর্কের পরিণতি হত্যাকাণ্ডে
তদন্তে উঠে এসেছে, হরিয়ানার বাসিন্দা পঙ্কজ নামে এক যুবকের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রূপবাণী দাসের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় পরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছু সময়ের জন্য রূপবাণী হরিয়ানায় গিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে সহবাসও করেন। তবে প্রায় দু’মাস আগে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বামীর কাছে ফিরে আসেন।
পুলিশের অনুমান, এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে মানসিক অস্থিরতার জেরে অভিযুক্ত কলকাতায় এসে এই ঘটনা ঘটায়।


ঘটনার দিন কী ঘটেছিল
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ রূপবাণী দাসকে তাঁর স্বামী অনুপ কুমার দাস প্রতিদিনের মতো পার্লারের সামনে নামিয়ে দেন। প্রায় ৪৫ মিনিট পরে, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পার্লার থেকে বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় যে ভিতরে তীব্র অশান্তি ও মারামারি চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্ত যুবক পার্লারে ঢুকে ভিতর থেকে কাঁচের দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর ভিতর থেকে চিৎকার ও তর্কাতর্কির শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন পার্লারের ভিতর রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জন পড়ে রয়েছেন।
তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান


পুলিশের ধারণা, প্রথমে রূপবাণী দাসকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়। এরপর অভিযুক্ত নিজের গলা কেটে আত্মঘাতী হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ বা আর্থিক লেনদেন জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জিতকুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এটি প্রেমঘটিত ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা অভিযুক্তের কলকাতায় আসার সময়, যোগাযোগের ইতিহাস এবং সম্পর্কের প্রকৃতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *