Popular Posts

মানবাজারে মমতার সভা: ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র রুখে আবারও বাংলায় সরকার গড়বে তৃণমূল’

শ্রেয়া সেনগুপ্ত পুরুলিয়া
এখানকার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সন্ধ্যা রানি টুডুকে সমর্থনের আবেদন জানান তিনি। মঞ্চে উপস্থিত দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সকাল সকাল সভায় আসা সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগে এই এলাকায় চাষযোগ্য জমি কম ছিল। পুকুর খনন ও মাটির সৃষ্টি প্রকল্প চালু করার ফলে ধীরে ধীরে কৃষিজমি বেড়েছে এবং চাষাবাদও বাড়ছে।
মানবাজারকে সাবডিভিশন করা হয়েছে। পুরুলিয়ার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে পুঞ্চা ব্লকে ভাষা সৌধ তৈরি হয়েছে। সীতারাম মাহাতো মেমোরিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শিশুদের জন্য SNCU, ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ—সহ একাধিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।


হুড়া ব্লকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার পানীয় জল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মানবাজার–বান্দোয়ান–কুইলাপাল ও দাবরা–দাহারডিঙ্গি রাস্তা তৈরি হয়েছে।
এই অঞ্চলে শালপাতার থালা, ফুলের গুলাল এবং খাদি টেক্সটাইল প্রকল্পের মতো শিল্প গড়ে উঠেছে। কৃষক বাজার, পাঠা সাথী এবং দুটি কর্মতীর্থও তৈরি হয়েছে।
পুঞ্চা ব্লকে জৈন মন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭৭ লক্ষ টাকার পর্যটন প্রকল্প হয়েছে এবং মানবাজারে পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা হয়েছে। একটি স্টেডিয়ামও নির্মিত হয়েছে।
জঙ্গলমহলের অতীতের অশান্তির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, একসময় এখানে বছরে প্রায় ৪০০ জন পর্যন্ত খুন হতো। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর শান্তি ফিরে এসেছে এবং মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আদিবাসী এলাকায় খাদ্যাভাবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, সেই থেকেই বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ খাদ্যসাথী প্রকল্পে সবাই বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তুলনায় স্বাস্থ্যসাথী সবার জন্য—ধর্ম বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনও বাছবিচার নেই বলেও দাবি করেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা অব্যাহত রাখতে হলে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন।


রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প—কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ, ছাত্রদের জন্য সাইকেল, স্মার্টফোন এবং স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
যুব সাথী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার আগের সময়ে তরুণদের আর্থিক সহায়তার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের জন্য বার্ষিক আর্থিক সহায়তা, ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের ভাতা—এসব প্রকল্প চালু থাকার কথাও বলেন তিনি।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলায় সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের সংস্কৃতি ও উৎসব পালন করতে পারে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তবুও রাজ্য সরকার মানুষকে পাকা বাড়ি দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ভবিষ্যতে দুয়ারে স্বাস্থ্য কর্মসূচি চালু করে বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
ভোটের আগে বিজেপির চার্জশিট প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, যারা গুজরাটে মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের আগে নিজেরাই জবাব দিক।
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন, অনেক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের নাম কাটা গেছে তাদের জন্য আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করবে তৃণমূল।
শেষবারে তিনি বলেন, “আমরা হিংসা চাই না, শান্তি চাই। বাংলাকে আবারও এগিয়ে নিয়ে যেতে তৃণমূলকেই ভোট দিন।”
পুরুলিয়ার মানুষকে উদ্দেশ করে তার বার্তা—জঙ্গলমহলে যেন আর কখনও অশান্তি ফিরে না আসে, তাই তৃণমূলের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *