1
1
সুমিত দে, কলকাতা:ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ফের সরব তৃণমূল কংগ্রেস। সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, Election Commission of India-কে নির্দেশ দিয়ে Supreme Court of India স্পষ্ট জানিয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম যুক্ত হবে, সেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ তৃণমূলের।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal-কে লেখা চিঠিতে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন—২৮ ফেব্রুয়ারির পর যাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যুক্ত হবে, তাঁদের নাম কি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে? নির্বাচন কমিশনের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি বলেই দাবি তাঁর।

পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন নতুন ভোটার যুক্ত হওয়া বা বাদ যাওয়ার তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু গত ছ’দিনে তেমন কোনও তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
অভিষেকের বক্তব্য, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের জন্য একটি আলাদা পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যাচাই ও অ্যাডজুডিকেশনের সমস্ত তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সেই তথ্য দেখার কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ভোটার, রাজনৈতিক দল বা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত অন্য পক্ষ—কেউই জানতে পারছেন না অ্যাডজুডিকেশনের আওতায় থাকা ভোটারদের বর্তমান অবস্থান।
এর পাশাপাশি যাচাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানানো উচিত। তাতে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

এই প্রেক্ষিতে তিনটি স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা—
১) সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় থাকা নামগুলি চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে—এই মর্মে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
২) প্রতিদিন যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা তৈরি হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে আনতে হবে।
৩) যাচাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কারণ দর্শাতে হবে।
অভিষেকের মতে, এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হলে তবেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হবে এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।