Popular Posts

বাণিজ্যিক গ্যাসে কেন্দ্রের কোপ, দেশ জুড়ে প্রভাব—হোটেল থেকে শ্মশান

বঙ্গ Live কলকাতা ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ যে বড়সড় চাপের মুখে পড়েছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই চুপ ছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু বাস্তবে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের একাধিক শহরে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সঙ্কটে কোথাও বন্ধ হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, আবার কোথাও থমকে যাচ্ছে শ্মশানের পরিষেবাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।
সরকার যদিও তেলের দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু রান্নার গ্যাস নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইতিমধ্যেই গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। তার মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের সঙ্কট।এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলি ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেঙ্গালুরুর রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার জেরে সোমবার থেকেই তাঁদের বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প মারাত্মক সঙ্কটে পড়েছে।


বেঙ্গালুরুতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা বিপুল সংখ্যক আইটি কর্মী প্রতিদিন এই হোটেল-রেস্তোরাঁগুলির উপর নির্ভর করেন। হঠাৎ করে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই মঙ্গলবার থেকে শহরের অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চেন্নাইতেও। হোটেল মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের মজুতও ফুরিয়ে এসেছে। ফলে বাধ্য হয়েই বহু হোটেল-রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হচ্ছে।
শুধু হোটেল শিল্পই নয়, প্রভাব পড়েছে শ্মশান পরিষেবাতেও। মহারাষ্ট্রের পুনে পুরনিগম সাময়িকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসে চালিত দাহ পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে শহরের ২৭টি শ্মশানে শবদাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।


পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠতে থাকায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক স্বীকার করেছে যে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেই কারণেই হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *