1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, আলিপুরদুয়ার
ফালাকাটা মিল রোড গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। তৃণমূল প্রার্থী সুভাষ চন্দ্র রায়ের সমর্থনে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, ফালাকাটার মানুষের উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
সভামঞ্চে উপস্থিত প্রার্থী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে অভিবাদন জানিয়ে তিনি ফালাকাটার মাটিকে প্রণাম জানান। তাঁর বক্তব্য, দুপুর থেকেই তিনি ছবি পাচ্ছেন—চার ঘণ্টা ধরে মানুষ সভাস্থলে জড়ো হয়ে অপেক্ষা করছেন। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ। তাঁর মতে, এতক্ষণ অপেক্ষা করা মানুষ শুধু বক্তৃতা শুনতে নয়, তৃণমূলকে জয়ী করার প্রত্যয় নিয়েই এসেছেন।
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন অভিষেক
জনসভায় এলাকার উন্নয়নের নানা তথ্য তুলে ধরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ২০২২ সালে ফালাকাটাকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ছিল বহুদিনের দাবি। যদিও এখনও স্থায়ী ভবন তৈরি হয়নি, তবে এই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী জয়ী হলে দ্রুত মিউনিসিপ্যাল ভবন ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় ইতিমধ্যেই একটি সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে, যার ফলে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবিতে নতুন ফায়ার স্টেশন তৈরি হয়েছে এবং ২০২১ সালের পর ফালাকাটায় একটি স্টেডিয়ামও নির্মিত হয়েছে।

সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
নবনগর গঙ্গামঙ্গল ঘাটে মুজনাই নদীর উপর সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে সরকার গঠন হলে সমীক্ষা করে দ্রুত সেই কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
বিজেপিকে রিপোর্ট কার্ডের চ্যালেঞ্জ
কেন্দ্রে দীর্ঘদিন বিজেপি ক্ষমতায় থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি যেমন নিজের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছেন, বিজেপির প্রতিনিধিদেরও উচিত উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের সামনে আসা। উন্নয়নের পরিসংখ্যানের নিরিখে তিনি বিজেপিকে পরাজিত করার চ্যালেঞ্জ জানান।
নারী ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা
সভায় বিপুল সংখ্যক মহিলার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দলের পাশে মহিলাদের সমর্থন থাকে তাকে হারানো কঠিন। তিনি বলেন, Mamata Banerjee সরকারের Lakshmir Bhandar প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মহিলা উপকৃত হচ্ছেন।
বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা
ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান—
গত দুই বছরে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ২১,৭৯৩ পরিবার ঘর পেয়েছে।
প্রায় ৭৮ হাজার মহিলা প্রতি মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থ পাচ্ছেন।
জেলায় এই সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার।
Khadya Sathi প্রকল্পে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন।
যুবসাথী প্রকল্পে সরাসরি হস্তান্তরের মাধ্যমে ২২,০৬৫ জন সুবিধা পেয়েছেন।
Kanyashree Prakalpa প্রকল্পে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্ত।
Rupashree Prakalpa-এর আওতায় রয়েছেন ১৯,৩৩৮ জন।
পথশ্রী প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮৬ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি বা সংস্কার হয়েছে।
এই তথ্য তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির প্রার্থী দীপক বর্মনের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড কোথায়।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তহবিল আটকে রাখার অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের রাজ্য নির্বাচনে বিজেপি হারার পর কেন্দ্র সরকার আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ ও জল জীবন মিশনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ন্যায্য তহবিল আটকে রেখেছে। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই রাজ্য সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক বার্তা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গত নির্বাচনে মাত্র সাড়ে তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল পরাজিত হয়েছিল। তবে এবারের জনসমর্থন দেখে তিনি নিশ্চিত, মানুষ তৃণমূলকে জয়ী করবেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে জয়ী করতে হবে, কারণ এই ভোট শুধু জয়ের জন্য নয়, প্রতিবাদেরও ভোট।
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, আগে অপরাধীরা অপরাধ করলে জেলে যেত, এখন তারা বিজেপিতে যোগ দেয়। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়ন ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে।
শেষ বার্তা
সভা শেষে ফালাকাটার মানুষের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং ফালাকাটার মানুষ এখন তাঁর “বর্ধিত পরিবারের অংশ”।