Popular Posts

ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের, সাংবাদিক বৈঠকে ডেরেক ও’ ব্রায়েন ও ব্রাত্য বসু

শ্রেয়া সেনগুপ্ত,কলকাতা
কলকাতার তৃণমূল ভবনে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য Derek O’Brien এবং রাজ্যের মন্ত্রী Bratya Basu।
তাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম তোলার পরিকল্পিত চক্রান্ত করছে বিজেপি। এদিন একাধিক নথি ও ভোটার আইডির তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তৃণমূল।
মমতার সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ
সাংবাদিক বৈঠকে ডেরেক ও’ ব্রায়েন বলেন, তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের কর্মী সম্মেলনেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে বাংলার ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার চেষ্টা করছে।
ডেরেকের দাবি, তখনই সতর্ক করা হয়েছিল যে ভোটে জিততে না পারলে বিজেপি ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করতে পারে। পরবর্তীতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee এই বিষয়টি সামনে আনেন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও সতর্ক করেন।
“আমরা অভিযোগই নয়, প্রমাণ দিচ্ছি”
ডেরেক ও’ ব্রায়েন বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস শুধু অভিযোগ তুলছে না, বরং গবেষণা করে একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। নাম, এপিক নম্বর এবং ভোটার তালিকার রেফারেন্স সহ সমস্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি দাবি করেন, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ—দুটি রাজ্যের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা গেছে কয়েকজনের নামে দুই জায়গাতেই ভোটার কার্ড রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সুলেখা কুমারী, রমেশ বা পরমেশ্বর যাদব ও তাঁর ছেলে উমেশ, শ্যাম বাহাদুর যাদব, কুমুদ সিং এবং ডলি দেবীর নাম উল্লেখ করেন তিনি।
ডেরেকের কথায়, “নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিই অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন চায়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের হাতে সব প্রমাণ তুলে দিচ্ছে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”


কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সংসদের দুই কক্ষের ১৯৩ জন সাংসদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের নোটিস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে সরব ব্রাত্য বসু
অন্যদিকে ব্রাত্য বসু বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থাকে ব্যবহার করে বাংলায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে একই পদ্ধতিতে ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে বিজেপি নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউটিউবার Dhruv Rathee আগেই একটি ভিডিওতে দেখিয়েছিলেন কীভাবে বিহার নির্বাচনে অন্য রাজ্য থেকে লোক এনে জাল ভোট দেওয়ানো হয়েছিল। তৃণমূলের দাবি, মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং হরিয়ানাতেও একইভাবে ভোটার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।
বাংলায়ও একই কৌশল?
ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, এখন সেই একই কৌশল বাংলাতেও প্রয়োগের চেষ্টা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে তৃণমূলকেই এই তথ্য সংগ্রহ করে সামনে আনতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর কথায়, “সিবিআই, ইডি, আয়কর বা এনআইএ পাঠানোর পাশাপাশি জাল ভোটার এনে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজেপি।”
আন্তর্জাতিক স্তরেও ইস্যু তোলার হুঁশিয়ারি
সাংবাদিক বৈঠকের শেষে ডেরেক ও’ ব্রায়েন বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে যে কারচুপির অভিযোগ উঠছে তার ধরণ প্রায় একই। তাঁর দাবি, এর সুবিধাভোগী দলও একটাই—বিজেপি।
তিনি জানান, প্রয়োজনে এই বিষয়টি দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও তুলে ধরবে তৃণমূল কংগ্রেস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *