1
1
সুমিত দে, কলকাতা:৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন এবং দোল উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রীতি, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বার্তা দিলেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগও তুললেন তিনি।
দোলযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের সকল সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার উৎসব মানেই ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা। অনুষ্ঠানে বিহারি, রাজস্থানি, গুজরাটি ও পাঞ্জাবি সংস্কৃতির পরিবেশনা বিশেষভাবে উপভোগ করেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “দোল উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই উদযাপিত হোক — এটাই আমার কামনা।”

সব সম্প্রদায়ের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জৈন সম্প্রদায়ের অনুরোধে নিউ টাউনে মন্দির নির্মাণের জন্য বিশ্ব বাংলা গেট সংলগ্ন প্রায় ৫ একর জমি সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জগন্নাথ ধাম, দুর্গা অঙ্গন, মহাকাল মন্দির, গুরুদ্বার গেট এবং মসজিদের জন্য জমি প্রদান করে রাজ্য সরকার সব ধর্মের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাংলার প্রায় ১.২০ কোটি মানুষ ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বহু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও ভোটারদের নাম ‘Under Adjudication’ তালিকায় রাখা হচ্ছে বা বাদ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিয়ের পর ঠিকানা বদল হওয়া কি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে?”

নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কোনও যাচাই ছাড়াই প্রথমে লক্ষাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং পরে আরও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার দায় BLO ও ERO-দের নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের ফল।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্বাচন কমিশন—সব জায়গায় বিষয়টি নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে সহযোগিতা করলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
ধর্নার ঘোষণা
ভোটার অধিকার রক্ষার দাবিতে আগামী ৬ মার্চ থেকে ধর্না কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষের নৈতিক সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, “মানুষের জন্য সংগ্রাম করতে করতে মরতেও আমি রাজি।”
ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা
ভাষণের শেষ অংশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের পথেই এগোতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ, মহাত্মা গান্ধীসহ দেশের মনীষীদের আদর্শ অনুসরণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।