1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত,কলকাতা: পূর্ব কলকাতার জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রশ্নে রাজ্য সরকার ও পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা-র বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়—আর কাগুজে রিপোর্ট নয়, এবার মাটিতে নেমে কাজ দেখতে চায় আদালত।
পূর্ব কলকাতার জলাভূমি সংলগ্ন এলাকায় চিহ্নিত ৫০৫টি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার বিষয়ে রাজ্য যদি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা পুলিশি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আধা সামরিক বাহিনী নামানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে—এমন কড়া মন্তব্য করেন বিচারপতি সিনহা। একই সঙ্গে মামলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রককে যুক্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত।
❝ আর রিপোর্ট নেব না, কাজ চাই ❞
শুনানিতে বিচারপতি সিনহা বলেন,
“আদালতে রিপোর্টের পর রিপোর্ট জমা পড়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কোনও প্রমাণ নেই। আর রিপোর্ট নেব না—এবার হাতেনাতে কাজ দেখতে চাই।”
প্রশাসনিক সহায়তার অভাবে কাজ থমকে
জলাভূমি রক্ষার দায়িত্বে থাকা ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (EKWMA) আদালতে জানায়, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে তারা বারবার জেলাশাসকের কাছে সাহায্য চেয়েছে, কিন্তু কার্যকর সহযোগিতা মেলেনি।

শুনানির শুরুতেই সংস্থাটি অভিযোগ করে, চৌবাগা-সহ সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। পাঁচটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার চালানো হলেও প্রশাসনিক সহায়তা না থাকায় কাজ এগোচ্ছে না।
❝ বিক্ষোভ সামলাতে না পারলে অন্য এজেন্সি ❞
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি সিনহা প্রশ্ন তোলেন,
“আপনারা যদি বিক্ষোভ সামলাতে না পারেন, তবে অন্য এজেন্সিকে ডাকতে হবে। রাজ্যের সাহায্য না পেলে প্যারামিলিটারি ফোর্সের জন্য অর্ডার দেব। এর বাইরে আর কোনও উপায় নেই।”
কেন্দ্র যুক্ত, নজরদারি কড়া
মামলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রক যুক্ত হওয়ায় নজরদারি আরও কড়া হল বলে মনে করছে আইন মহল। আদালতের স্পষ্ট বার্তা—পূর্ব কলকাতার জলাভূমি রক্ষায় কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে এবার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর নির্দেশ আসতে পারে।

এখন নজর—আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর রাজ্য প্রশাসন ও পুর কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কীভাবে মাঠে নেমে কাজ শুরু করে।