Popular Posts

সিইও দফতরের সামনে রাতভর ধর্নায় বামফ্রন্ট, তৃণমূলের কটাক্ষে চড়ল রাজনৈতিক পারদ

শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা:নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরের সামনে বামফ্রন্টের অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। বুধবার স্মারকলিপি জমা দিতে সিইও দফতরে যান বামফ্রন্টের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে স্পষ্টতা চেয়েই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে বাম নেতৃত্ব।
বামেদের অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ‘ম্যাপিং’ হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নাম আর ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রাখা যাবে না। পাশাপাশি যাঁদের নাম এখনও বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের তালিকা কারণ-সহ প্রকাশ করার দাবিও জানানো হয়েছে। ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এর অজুহাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে বামফ্রন্ট।
তবে বাম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিইও বা তাঁর কোনও প্রতিনিধির দেখা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। এরই প্রতিবাদে দফতরের সামনে রাতভর ধর্নায় বসেন বাম নেতৃত্ব ও কর্মীরা।
তৃণমূলের কটাক্ষ
এই কর্মসূচিকে ঘিরে বামেদের তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, এসআইআর (SIR) ইস্যুতে যখন তৃণমূল আন্দোলনে নেমেছিল, তখন সিপিআইএম নীরব ছিল।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য,
“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই বিষয় নিয়ে লড়াই করছিলেন, তখন সিপিআইএম সমালোচনা করছিল। এখন আবার আন্দোলনে নেমেছে শুধুমাত্র ‘বিজেপির বি-টিম’ তকমা এড়ানোর জন্য।”
তাঁর আরও দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নতুন করে ধর্নার ঘোষণা করার পরেই বামেরা ‘লোক দেখানো’ আন্দোলনে নেমেছে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকা ইস্যুতে প্রকৃত লড়াই লড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বামেদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতেই তাঁদের এই কর্মসূচি।
নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *