Popular Posts

চতুর্থবারের সরকার গঠনের লক্ষ্যে ১০ ‘প্রতিজ্ঞা’ ঘোষণা মমতার, উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় জোর

সুমিত দে কলকাতা:আগামী পাঁচ বছরের শাসনকালের রূপরেখা তুলে ধরে ১০ দফা ‘প্রতিজ্ঞা’ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখা, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াকেই এই প্রতিশ্রুতিগুলির মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলার প্রতিটি ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে এবং মানুষের জীবনমান আরও উন্নত করতেই এই প্রতিজ্ঞাগুলি আগামী পাঁচ বছরের সরকারের পথচলার ভিত্তি হবে।


লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি
মা-বোনেদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসিক অনুদান আরও ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সাধারণ শ্রেণির উপভোক্তারা মাসে ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) এবং তপশিলি জাতি ও তপশিলি জনজাতিভুক্ত উপভোক্তারা মাসে ১,৭০০ টাকা (বার্ষিক ২০,৪০০ টাকা) করে সহায়তা পাবেন।
যুবকদের জন্য ‘বাংলার যুব-সাথী’
রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দিতে ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্প চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জীবিকাহীন যুবক-যুবতীদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ বাজেট
কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ ‘কৃষি বাজেট’ রূপায়ণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভূমিহীন কৃষকদেরও এই উদ্যোগের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।


আবাসন ও পানীয় জল
রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের মাথার উপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করা এবং ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
‘দুয়ারে চিকিৎসা’ উদ্যোগ
স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতি বছর প্রতিটি ব্লক ও টাউনে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ স্থানীয় স্তরেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পান।


শিক্ষায় পরিকাঠামো উন্নয়ন
‘বাংলার শিক্ষায়তন’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শিল্প ও বাণিজ্যে জোর
পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাকে গড়ে তুলতে বিশ্বমানের লজিস্টিকস, বন্দর ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি একটি আধুনিক গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা
বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পের আওতা ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করে সকল যোগ্য প্রবীণ নাগরিককে এর অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান উপভোক্তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা বজায় থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।


প্রশাসনিক পুনর্গঠন
প্রশাসনিক পরিষেবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ৭টি নতুন জেলা গঠন এবং ভৌগোলিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে পৌরসভার সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই ১০টি প্রতিজ্ঞাই আগামী পাঁচ বছরে সুশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে ঘোষিত এই প্রতিশ্রুতিগুলি রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *