Popular Posts

রঘুনাথপুরে বিজেপিকে তোপ মমতার, ‘ভোটে কারচুপি হলে মহিলারাই প্রতিরোধ গড়ুন’

বঙ্গ Live কলকাতা ডেস্ক
রঘুনাথপুরের ইনানপুর ফুটবল মাঠের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন। উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা, অর্থনীতি ও সামাজিক ইস্যুতে একাধিক অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সভামঞ্চে প্রার্থীদের পরিচয়
সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন বান্দোয়ানের তৃণমূল প্রার্থী রাজীব লোচন সরেন। পাশাপাশি রঘুনাথপুর থেকে হাজারি বাউরি এবং পাড়া থেকে মানিক বাউরিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রঘুনাথপুরে শিল্প ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রঘুনাথপুর অঞ্চলটি রাজ্যের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর ফলে প্রায় ১.৫ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
ডানকুনি–রঘুনাথপুর অর্থনৈতিক করিডোরের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্প চালু হলে স্থানীয় মানুষকে আর কাজের জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হবে না।
তিনি আরও জানান, রঘুনাথপুর শিল্প পার্ক, কিষাণ মান্ডি, গড়পঞ্চকোট মন্দিরের পুনর্নির্মাণ ও গড়পঞ্চকোট ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ ও ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের উন্নয়নও করা হচ্ছে।
কল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
গত পাঁচ বছর ধরে মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে মহিলারা পরিবারের প্রধান হিসেবে ক্ষমতায়িত হয়েছেন।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, মেধাশ্রী, ঐক্যশ্রী ও তপশিলি বন্ধু।
স্কুলে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, বই, জুতো, ব্যাগ ও মিড-ডে মিল দেওয়া হয়।
নবম শ্রেণিতে সাইকেল এবং একাদশ শ্রেণিতে স্মার্টফোন দেওয়া হয়।
ASHA ও ICDS কর্মীরাও স্মার্টফোন পান।
ভাতা সংক্রান্ত সমস্যায় আশ্বাস
ঝাড়গ্রামের এক বৃদ্ধার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কিছু বিধবা ও প্রবীণ নাগরিক ভাতা পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধান করা হবে।


কৃষক ও আদিবাসীদের প্রসঙ্গ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আলু চাষিরা চাইলে অন্য রাজ্যে তাঁদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। ক্ষতির সম্মুখীন হলে বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার আইন করে আদিবাসীদের জমি সুরক্ষিত করেছে এবং বনাধিকার নিশ্চিত করেছে।
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ
বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন,
“বিজেপি ১৫ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কেউ কি তা পেয়েছেন?”
ভোটের আগে টাকা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নোটবন্দি, আধার এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে অপমান করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা ইস্যু
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ১.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি রাজপথে আন্দোলন ও সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেসব ভোটারের নাম বিচারাধীন রয়েছে, তাদের জন্য সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা উচিত।
সামাজিক বিভাজনের অভিযোগ
তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম মহিলা, আদিবাসী, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পেট্রোল-ডিজেলের আবগারি শুল্ক কমানোকে “ভোটমুখী পদক্ষেপ” বলে দাবি করেন তিনি। রেলের ভাড়া বৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন।
আদিবাসী উন্নয়ন ও শিক্ষা
তিনি জানান, রাজ্যে বিভিন্ন জেলায় আদিবাসী একাডেমি, বিরসা মুন্ডা একাডেমি এবং আদিবাসী ভবন তৈরি হয়েছে। আদিবাসী ছাত্রছাত্রীরা এখন কোচিংয়ের সুযোগ পাচ্ছে এবং প্রশাসনিক পরিষেবাতেও সুযোগ পাচ্ছে।


লোকসংস্কৃতি ও ক্রীড়া উদ্যোগ
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় প্রায় ২ লক্ষ লোকশিল্পী লোকপ্রসার প্রকল্পের সুবিধা পান। পুরুলিয়ায় ছৌ একাডেমি তৈরি হয়েছে এবং কাশীপুরে ফুটবল একাডেমি গড়ে তোলা হচ্ছে।
ভোটে সতর্ক থাকার বার্তা
সভা থেকে তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি ভোটে কারচুপির চেষ্টা করে তবে মহিলাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি EVM রক্ষা করা এবং গণনার দিন কড়া নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি শান্তিতে থাকতে চান এবং উন্নয়ন চান, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও বিকল্প নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *