1
1
সুমিত দে, কলকাতা :বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণার পরপরই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে ব্যাপক রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়ে নিজের আপত্তি ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের সূচি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে অপসারণের নির্দেশ দেয়। অথচ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ, নির্বাচনী অনিয়ম বা পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পাশাপাশি, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শও করা হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে যে সাংবিধানিক ভারসাম্য ও প্রথা বজায় ছিল, এই সিদ্ধান্ত সেই প্রতিষ্ঠিত রীতির থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুতি নির্দেশ করে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে একযোগে এই ধরনের হস্তক্ষেপ গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। সেই কারণেই একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর।