1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা:রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ থাকার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার থেকে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের শতাধিক নেতা-নেত্রী। প্রথম দিনের কর্মসূচির পর রাতভর মঞ্চেই অবস্থান করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।
প্রথম দিনের ধর্না মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কবীর সুমন-সহ একাধিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মমতা বালা ঠাকুর, মেনকা গুরুস্বামী, জয় গোস্বামী এবং শতাব্দী রায়ও। শনিবার ধর্না মঞ্চে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য এবং আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা জানতে সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা ধর্মতলার দিকে ভিড় জমাচ্ছেন।
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি বাংলার মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে। শুরু থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। শুক্রবার রাতে ধর্না মঞ্চ থেকে কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করলেও তিনি নিজে সারারাত মেট্রো চ্যানেলের মঞ্চেই অবস্থান করেন।
এই আন্দোলন ঘিরে অনেকেরই মনে পড়ছে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়কার দৃশ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যেভাবে সরব হয়েছেন মমতা, তাতে তাঁকে আবারও বিরোধী নেত্রীর চেনা লড়াকু ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।
ধর্না মঞ্চের কর্মসূচির সময়সূচিও আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি। বিকেল ৪টেয় শুরু হবে মূল সভা। রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মঞ্চের মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ থাকবে। কারণ ধর্মতলা মূলত অফিসপাড়া হলেও আশপাশে অনেক আবাসিক এলাকা রয়েছে—তাঁদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন