Popular Posts

মোদির চিঠিতে ‘জয় মা কালী’, কিন্তু বাংলা বঞ্চনার কথা কই? কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের

সুমিত দে,কলকাতা: সম্প্রতি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ প্রীতি দেখাতে শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কখনও বাংলায় ভাষণ, কখনও আবার বাংলার আবেগকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বার্তা। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে উদ্দেশ্য করে বাংলায় একটি চিঠি লিখেছেন, যার শুরুতেই রয়েছে—‘জয় মা কালী’। তবে এই চিঠি ঘিরেই এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে নামল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে একদিকে বাংলায় রোজগারের সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর ইঙ্গিত এবং ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর স্বপ্নের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের প্রচারও রয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের প্রশ্ন—এই চিঠিতে বাংলার বঞ্চনার কথা কোথায়?
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন, “চিঠিতে জয় শ্রীরাম নেই, বদলে জয় মা কালী লেখা হয়েছে। কিন্তু বাংলার মানুষের প্রাপ্য টাকা কোথায়? বাংলার বকেয়া, ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাস যোজনার ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকার কথা চিঠিতে একটি শব্দও নেই। কেন্দ্র যেভাবে প্রতিহিংসামূলকভাবে বাংলাকে বঞ্চনা করছে, তার উল্লেখ পর্যন্ত নেই।”


কুণাল ঘোষের আরও দাবি, প্রধানমন্ত্রী নিজের চিঠিতেই লিখেছেন বাংলার মানুষ বঞ্চনার শিকার এবং সেই যন্ত্রণায় তাঁর হৃদয় ভারাক্রান্ত। অথচ সেই বঞ্চনার জন্য কেন্দ্রের দায় স্বীকার বা প্রাপ্য টাকা মেটানোর কোনও আশ্বাস নেই। তৃণমূলের মতে, এই চিঠির সঙ্গে বাংলার সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের কোনও সম্পর্ক নেই—এটি শুধুই রাজনৈতিক প্রচার।
চিঠি প্রকাশ্যে এলেও, তা আদৌ কীভাবে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছবে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নামে চিঠি ছাপানো হচ্ছে। কিন্তু বিজেপির কাছে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লোক নেই। বিজেপি তো ঠিকমতো বিএলএ-টুও দিতে পারে না। ২৫ হাজার কপি ছাপানো হয়েছে কিনা, তাও সন্দেহ—নিয়ে যাওয়ার লোকই নেই।”


চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষকে ‘পরিবর্তনের’ ডাক দিয়েছেন এবং বিজেপির উন্নয়নযজ্ঞে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সেই আহ্বান উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা—বাংলায় কোনও পরিবর্তন হবে না। কুণাল ঘোষ বলেন, “২০২১ সালেও ওরা পরিবর্তনের কথা বলেছিল। বাংলার মানুষ তখনও প্রত্যাখ্যান করেছে। এবারও করবে।”
তৃণমূলের দাবি, বাংলার মানুষ উন্নয়ন মানে কী, তা ভালভাবেই জানেন এবং তাঁরা আস্থা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বের উপর। তাই ‘জয় মা কালী’ লিখে চিঠি শুরু করলেও, বাংলার প্রকৃত দাবি ও বঞ্চনার প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বিজেপি ও কেন্দ্র কোনওভাবেই বাংলার মানুষের মন জয় করতে পারবে না—এমনটাই দাবি শাসকদলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *