1
1
সুমিত দে, কলকাতা:
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই প্রচারের ময়দানে পূর্ণ শক্তিতে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম রবিবারেই শহর থেকে জেলা— সর্বত্রই দেখা গেল ঘাসফুল শিবিরের জোরদার জনসংযোগ অভিযান। ঘরোয়া বৈঠক, পথসভা, রোড শো থেকে শুরু করে বৃহৎ মিছিল— ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে ভোট প্রচারে কোনও ফাঁক রাখতে চাননি প্রার্থীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে রাজ্যজুড়ে জেলা সফরে বেরোচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। তাঁর প্রথম কর্মসূচি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায়। শীর্ষ নেতৃত্বের সফরের আগেই এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারের গতি বাড়াতে সক্রিয় থাকলেন প্রার্থীরা।
কলকাতায় বাড়ি বাড়ি প্রচার
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই প্রচারের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। টালিগঞ্জের ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে বরো চেয়ারম্যান তারকেশ্বর চক্রবর্তী ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করেন Aroop Biswas।
বালিগঞ্জের প্রার্থী Sobhandeb Chattopadhyay কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন।
বেলেঘাটায় প্রার্থী Kunal Ghosh একটি রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রাজারহাট–গোপালপুরে প্রার্থী Aditi Munshi-র সমর্থনে কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ নেতা Saugata Roy, Partha Bhowmick ও Nirmal Ghosh। সভাস্থলেই দেওয়াল লিখনে অংশ নেন অদিতি।

জেলায় জেলায় প্রচারের ঝড়
উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে Somnath Shyam শ্যামনগর রবীন্দ্রভবনে বড় কর্মিসভার মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। বনগাঁ উত্তরে Biswajit Das এবং বনগাঁ দক্ষিণে নতুন মুখ Rituporna Adhya নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রচারে নামেন।
সবচেয়ে নজরকাড়া ছবি ধরা পড়ে পাণ্ডবেশ্বরে। প্রার্থী Narendranath Chakraborty-র সমর্থনে আয়োজিত মহামিছিল কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ডিভিসি মোড় থেকে স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। তাঁর দাবি, এই জনসমাগম উন্নয়নের ধারাবাহিকতার পক্ষেই মানুষের সমর্থনের ইঙ্গিত।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় সক্রিয় ছিলেন Rajib Banerjee। মহিলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি একটি বর্ণাঢ্য মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

কৌশল: শুরুতেই চাপ বাড়ানো
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী ঘোষণার পর প্রথম থেকেই মাঠে নেমে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং বুথভিত্তিক যোগাযোগ বাড়ানোই তৃণমূলের মূল কৌশল। প্রাথমিক পর্যায়েই প্রচারের গতি বাড়িয়ে বিরোধীদের উপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করাই এখন লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের একাধিক জেলায় একই দিনে এমন ব্যাপক কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে— নির্বাচনী লড়াইয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে চাইছে জোড়াফুল শিবির।