1
1
সুমিত দে, গুয়াহাটি:বিজেপির তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার কি আদৌ নারীসম্মানের প্রতীক? গুয়াহাটির এক জনসভায় দলীয় পতাকা হাতে এক বিজেপি কর্মীর মহিলাদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গির ঘটনা নতুন করে সেই প্রশ্নই তুলে দিল। প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির মান নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে নারীশক্তির বন্দনা, ‘নতুন ভারত’-এর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অথচ বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, তাঁদেরই দলের কর্মীরা প্রকাশ্যে মহিলাদের অপমান করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করছে না। প্রশ্ন উঠছে—এই কি বিজেপির ‘বেটি বাঁচাও’-এর আসল রূপ?

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী সুরক্ষা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে অসম—প্রায় সর্বত্রই মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নারী নির্যাতন, কটূক্তি, সামাজিক অবমাননার অভিযোগে বারবার বিদ্ধ হচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের দাবি।
গুয়াহাটির জনসভায় ঘটে যাওয়া এই কাণ্ডে স্পষ্ট, বিজেপির মুখে নারীসম্মানের ভাষণ আর বাস্তবে দলের কর্মীদের আচরণের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। সমালোচকদের বক্তব্য, ‘বেটি বাঁচাও’-এর স্লোগানের নিচে লুকিয়ে থাকা এই কদর্য চেহারাটাই আজ সাধারণ মানুষের সামনে নগ্ন হয়ে পড়েছে।

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। প্রশ্ন একটাই—যে দলে মহিলাদের প্রতি সম্মানই শেখানো হয় না, তারা কীভাবে দেশের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে ঘিরে এই প্রশ্ন আজ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।