Popular Posts

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, শেয়ার বাজারে ধস — বিনিয়োগকারীদের ২৫ লক্ষ কোটি টাকা উধাও

সুমিত দে,নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের শেয়ার বাজারে। টানা দ্বিতীয় দিনের ধসে বড় অঙ্কের সম্পদ হারালেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তা, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
সূচকে বড় পতন
সোমবার দিনের শেষে
সেনসেক্স ১,৩৫২.৭৪ পয়েন্ট (১.৭১%) কমে দাঁড়ায় ৭৭,৫৬৬.১৬
নিফটি ৪২২.৪০ পয়েন্ট (১.৭৩%) নেমে ২৪,০২৮.০৫-এ বন্ধ হয়
নিফটি আবার ২৪ হাজারের ঘরে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।


২৫ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উধাও
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন ৪৬৩.৯ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৪০ লক্ষ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কয়েক দিনের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২৫ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ে গেছে — যা ভারতের বার্ষিক জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশের সমান।
নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজার থেকে টাকা সরিয়ে সোনা ও মার্কিন ডলারের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করছেন। ফলে উদীয়মান বাজারগুলিতে চাপ বাড়ছে।
তেলের দামে আগুন, ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে
সংকটের অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি।
ব্রেন্ট ক্রুড প্রথমে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়ালেও পরে কমে প্রায় ১১২ ডলারে স্থির হয়।
ভারত তার মোট তেলের চাহিদার ৮৫–৯০ শতাংশ আমদানি করে। এসবিআই রিসার্চের মতে, তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও গভীর হয়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের দাম যদি ১২০–১৩০ ডলারের মধ্যে স্থায়ী হয়, তবে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থেকে নেমে প্রায় ৬ শতাংশে চলে আসতে পারে।


শিল্পক্ষেত্রে চাপ
তেলনির্ভর শিল্পগুলিতে ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে—
বিমান জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে এভিয়েশন খাত চাপের মুখে
ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের শেয়ার ৭ শতাংশের বেশি পড়েছে
রং, রাসায়নিক ও টায়ার শিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে
অন্যদিকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও কোল ইন্ডিয়ার মতো জ্বালানি সংস্থার শেয়ার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর আশঙ্কা
এসবিআই রিসার্চ পরিস্থিতিকে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখছে— যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যায় কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।
এদিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মান দুর্বল হয়ে ৯২-এর ঘর ছুঁয়েছে, যা আমদানি ব্যয় আরও বাড়াতে পারে।
রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও চাপ বাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর। বিরোধীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান ও জ্বালানি নীতিতে সরকারের অবস্থান নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহ ভারতীয় অর্থনীতি ও বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *