Popular Posts

১৯ আইপিএস অফিসারের বদলি, ৩৭৮ জন অবজারভার: বাংলা ভোটে নজিরবিহীন কড়া নির্বাচন কমিশন

সুমিত দে, কলকাতা:পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিল Election Commission of India। ভোট ঘোষণার পরই একসঙ্গে ১৯ জন আইপিএস আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ করা হয়েছে মোট ৩৭৮ জন অবজারভার— যা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
একসঙ্গে ১৯ আইপিএস অফিসারের বদলি


কমিশনের নির্দেশে যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জেলার পুলিশ সুপার, এডিজি সাউথ বেঙ্গল, চারজন পুলিশ কমিশনার এবং একজন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক।
যে সব জেলার পুলিশ সুপার বদলি হয়েছেন:
বারাসত — প্রিয়ব্রত রায়
কোচবিহার — সন্দীপ কাররা
বীরভূম — আমনদ্বীপ
ইসলামপুর — জোবি টমাস
হুগলি গ্রামীণ — কামনাশীষ সেন
ডায়মন্ড হারবার — বিশপ সরকার
মুর্শিদাবাদ — ধৃতিমান সরকার
বসিরহাট — আরিস বিলাল
মালদা — অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
পূর্ব মেদিনীপুর — পারিজাত বিশ্বাস
জঙ্গিপুর — মেহেদি হাসান
পশ্চিম মেদিনীপুর — সৌমদ্বীপ ভট্টাচার্য
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বদলি:
ডিসি সেন্ট্রাল — ইন্দিরা মুখার্জি
এডিজি সাউথ বেঙ্গল — রাজীব মিশ্র
যে পুলিশ কমিশনারদের সরানো হয়েছে:
ব্যারাকপুর — প্রবীণ ত্রিপাঠী (আগেই অবজারভার করা হয়েছিল)
হাওড়া — আকাশ মাঘারিয়া
আসানসোল — সুনীল চৌধুরী (আগেই অবজারভার করা হয়েছিল)
চন্দননগর — কোটেশ্বর রাও
নজিরবিহীন ৩৭৮ জন অবজারভার
এবারের নির্বাচনে নজরদারি আরও কঠোর করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার— অর্থাৎ প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে অবজারভার। পাশাপাশি ৮৪ জন পুলিশ অবজারভারও নিয়োগ করা হয়েছে।


সব মিলিয়ে জেনারেল ও পুলিশ অবজারভার মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৭৮— যা আগে কখনও দেখা যায়নি। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সরাসরি নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
২০২১ সালের তুলনায় বড় পরিবর্তন
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেনারেল অবজারভার ছিলেন ১৬০ জন এবং পুলিশ অবজারভার ছিলেন ৩৭ জন। তখন একজন অবজারভারকে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই পদ্ধতি বদলে প্রতি আসনে আলাদা জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কড়া বার্তা
সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্বাচন পরিচালনায় কোনও ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না। যেহেতু এবারের ভোট মাত্র দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে, তাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে অশান্তি রুখতে কমিশন যে কোনও পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত— এমনই বার্তা দিয়েছে কমিশন। একমাত্র লক্ষ্য, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *