1
1
সুমিত দে, কলকাতা : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রস্তুতি শুরু হতেই ভোটার তালিকা ঘিরে অনিশ্চয়তা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সর্বদলীয় বৈঠক। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি শশী পাঁজা।
গত ১৫ মার্চ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে। তবে নির্বাচনের মুখে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে শশী পাঁজা প্রশ্ন তোলেন, এত বড় সংখ্যক ভোটারের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট না হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা (SIR)-এর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দ্রুত স্বচ্ছ সিদ্ধান্তের দাবি জানায়। তবে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে সব দলই একমত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন তাপস রায় ও সঞ্জয় সিং। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কল্লোল মজুমদার ও পলাশ দাস, আর কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে যোগ দেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়।
বৈঠক শেষে শশী পাঁজা জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া প্রায় ১৯ লক্ষ নামের তালিকা চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশ করা হতে পারে। তবে বাকি বিপুল সংখ্যক ‘বিচারাধীন’ নামের ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়।
কংগ্রেসের তরফেও বিষয়টিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলের প্রতিনিধিরা জানান, এত বড় সংখ্যক ভোটারের নাম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে এবং এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। একই সুর শোনা যায় সিপিএম প্রতিনিধিদের বক্তব্যেও। সিপিএম নেতা পলাশ দাস দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে কমিশনের প্রতিনিধিদের তরফে কঠোর সুরে আলোচনাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ভোটার তালিকা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।