1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত কলকাতা: শিশুদের পড়াশোনাকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে গল্পের মাধ্যমে পাঠদান চালুর উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য ১৫০ জন শিক্ষককে অনলাইনে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে দফতরের।
সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে বাঙালি পরিবারের গঠন এবং শিশুদের বড় হয়ে ওঠার পরিবেশ। একসময় যৌথ পরিবারে ভাইবোনের খুনসুটি, ঠাকুমা-দিদিমার গল্প শোনা ছিল শৈশবের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এখন সেই সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ছোটদের মধ্যে গল্প শোনার অভ্যাসও কমে এসেছে। সেই চিরায়ত অভ্যাসকে আবার ফিরিয়ে আনতেই গল্পের মাধ্যমে পাঠদানের এই উদ্যোগ।
দফতর সূত্রে খবর, প্রথাগত পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় এবং সহজবোধ্য করে তুলতে পাঠ্যবিষয়গুলো গল্পের আকারে শিশুদের সামনে তুলে ধরার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে পড়ুয়াদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলেই মনে করছে শিক্ষা দফতর। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যেও ছোটরা যাতে তাদের শৈশবের আনন্দ হারিয়ে না ফেলে, সেই দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় সব জেলা থেকে নির্বাচিত ১৫০ জন শিক্ষককে অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পর্ষদ (এসসিইআরটি)-এর এক কর্তা জানান, ধাপে ধাপে রাজ্যের সব শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।
গত দু’দশকে শহরাঞ্চলে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে সরকারি ও সরকারপোষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তবে গ্রাম ও মফস্সল অঞ্চলে এখনও এই স্কুলগুলিই বহু পড়ুয়ার প্রধান ভরসা। তাই ওই অঞ্চলগুলির স্কুলের পাঠদানের মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য ইতিমধ্যেই প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে নাচ, গান ও আবৃত্তির মতো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় পাঠদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের জন্য ‘প্রারম্ভিক শৈশবকালীন যত্ন ও শিক্ষা’, ‘ভিত্তিমূলক সাক্ষরতা’ এবং ‘সংখ্যাজ্ঞান ও সহযোগিতামূলক গল্পকথন’ শীর্ষক বইয়ের পিডিএফ পাঠানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করে শিক্ষকেরা দফতরে রিপোর্টও জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে সেই রিপোর্ট সন্তোষজনক বলেই জানিয়েছেন দফতরের আধিকারিকেরা।
শিক্ষা দফতরের এক কর্তার কথায়, “শিশুরা যেন নিজেরাই স্কুলে আসতে আগ্রহী হয় এবং স্কুলকে ভালোবাসে—সেই পরিবেশ তৈরি করাই লক্ষ্য। এখনকার ব্যস্ত জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই ছোটদের গল্প শোনানোর সময় পাওয়া যায় না। ফলে তাদের মানসিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে। সেই দায়িত্ব এবার শিক্ষকদেরই নিতে হবে।”
এই নতুন উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরাও উৎসাহিত বলে জানিয়েছে শিক্ষা দফতর।