1
1
সুমিত দে, কলকাতা:ভবানীপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। মোট ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী।
৮৫০ কোটির প্রকল্প, ১২.৫ লক্ষ পড়ুয়াকে সাইকেল
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন ১৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে এবং ১২.৫ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শরণার্থী কলোনিকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ফুরফুরা শরীফে ১০০ শয্যার হাসপাতালের উদ্বোধন, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ৫০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক, একাধিক ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’ নির্মাণের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
এছাড়া—
বাঁকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের উপর নতুন সেতু
১২০টি নতুন সিএনজি বাস সংযোজন
মালদায় ভূগর্ভস্থ কেবল নেটওয়ার্কের সূচনা
সহ একাধিক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা
ভবানীপুরকে “ছোটখাটো ভারত” বলে উল্লেখ করেন তিনি। জৈন ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলার সঙ্গে জৈন ধর্মের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
Mahavira-র শৈশবের সঙ্গে বর্ধমানের ঐতিহাসিক যোগের কথা তুলে ধরেন। পরেশনাথ জৈন মন্দিরে একাধিকবার যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সল্টলেকে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘মাইনরিটি সেন্টার’ তৈরির ঘোষণা করেন, যেখানে জৈন, শিখ, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবেন। সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি রক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।
রমজান ও আসন্ন হোলির শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধনধান্য স্টেডিয়ামে জায়গার অভাবে এ বছর ২ মার্চ বিকেল ৪টেয় Netaji Indoor Stadium-এ হোলি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

যুবকদের নিয়োগপত্র
নিজের কোটা থেকে ২১ জন যুবককে নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম এক বছর তাঁরা মাসে ১০ হাজার টাকা পাবেন, পরে গ্রুপ-ডি কর্মী হিসেবে স্থায়ী নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়।
SIR নিয়ে ক্ষোভ, সুপ্রিম কোর্টে লড়াই
SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাথমিকভাবে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র অজুহাতে আরও নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এই ইস্যুতে তিনি ইতিমধ্যেই Supreme Court of India-র দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান। অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশের পরেও গোপনে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিতব্য ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমি কোনও ভোটারের রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্ম দেখি না। শুধু চাই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকুক।”

মানস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রার্থনার কথাও জানান তিনি।
প্রশাসনিক উদ্যোগ, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা এবং SIR ইস্যুতে রাজনৈতিক সুর—সব মিলিয়ে ভবানীপুরের কর্মসূচি থেকে স্পষ্ট, ভোটের আগে একাধিক বার্তা দিতে চাইছে শাসকদল।