1
1
সুমিত দে, কলকাতা:
কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হল মোট পাঁচজনকে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন লিফটম্যান এবং দু’জন নিরাপত্তারক্ষী। অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে।
গ্রেফতার কারা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার লিফটম্যানরা হলেন —
মিলন কুমার দাস
বিশ্বনাথ দাস
মানস গুহ
এছাড়া গ্রেফতার দুই নিরাপত্তারক্ষী —
আসরাফুল রহমান
শুভদীপ দাস

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের দোতলা থেকে সাততলায় উঠছিলেন। দোতলা পার হওয়ার পর আচমকাই লিফটে গোলযোগ দেখা দেয় এবং সেটি দ্রুত নীচে নেমে সরাসরি বেসমেন্টে পৌঁছে যায়।
বেসমেন্টে পৌঁছানোর পর লিফটের দরজা খুললেও সামনে থাকা লোহার গ্রিলে তালা লাগানো থাকায় তাঁরা বেরোতে পারেননি। একই সময়ে বেসমেন্টে নামার সিঁড়ির গেটেও তালা ছিল। অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টা লিফটে আটকে থাকলেও উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি।
মর্মান্তিক মুহূর্ত
দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর লিফটের দুই দরজার মাঝখান দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় হঠাৎ লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং লিফট ওপরে উঠতে শুরু করে। দরজার মাঝে আটকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। শরীরের একাংশ লিফটের ভিতরে এবং অন্য অংশ বাইরে থাকায় দেওয়ালে ধাক্কা লেগে মারাত্মক আঘাত পান।

লিফটটি কিছুটা উঠে আবার আটকে যায় এবং পরে ফের বেসমেন্টে নেমে আসে। তখন গুরুতর আহত অবস্থায় লিফটের মেঝেতে পড়ে যান অরূপবাবু। পরে তালা খুলে হাসপাতালের কর্মীরা নীচে নেমে তিনজনকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
উঠছে একাধিক প্রশ্ন
ঘটনার পর একাধিক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে —
দুর্ঘটনার সময় লিফটম্যান কোথায় ছিলেন?
বেসমেন্টের গেটের চাবি কার কাছে ছিল?
এক ঘণ্টা ধরে আটকে থাকার পরও উদ্ধার কেন শুরু হয়নি?
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়; ঘটনার নেপথ্যে গাফিলতি ও দায় এড়ানোর চেষ্টা রয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আর জি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি উঠেছিল। কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু শুক্রবারের এই ঘটনায় ফের রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লিফট রক্ষণাবেক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।