Popular Posts

নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশে বিজেপি ও কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতার, উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পে জোর

সুমিত দে কলকাতা:
নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের সময় কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। একইসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়ন, সামাজিক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতির বিস্তারিত রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি কাজ করেছে তাঁর সরকার। “কর্মই আমাদের ধর্ম,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর আশীর্বাদে উন্নয়নের ভিত তৈরি হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতাই নতুন ইস্তাহারের মূল ভিত্তি।
বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বক্তব্যে বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গ ও বিহারের কিছু অংশ নিয়ে নতুন রাজ্য গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশন, এনআরসি ও জনগণনা প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।


প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার স্বৈরাচারী আচরণ করছে এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচনের আগে একাধিক আমলার বদলি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সীমা অতিক্রম করেছে। খাদ্য, পিডব্লিউডি ও পঞ্চায়েত দফতরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বাংলার প্রশাসনিক বাস্তবতা না জেনে বাইরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে সমস্যা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি “প্রকাশ্য রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো” এবং রাজ্যের স্বাভাবিক প্রশাসন ব্যাহত হচ্ছে।
ভোটার তালিকা ও এনআরসি ইস্যু
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং সংখ্যালঘু সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এনআরসি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সকলের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল শর্ত।
উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পের পরিসংখ্যান
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরে তিনি জানান—
১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি বাড়ি নির্মাণ বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সরাসরি পানীয় জলের সংযোগ ২ লক্ষ থেকে বেড়ে প্রায় ১ কোটিতে পৌঁছেছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধি করে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও জনজাতি মহিলাদের ১,৭০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে।
‘যুব সাথী’ প্রকল্পে ২১–৪০ বছর বয়সী যুবকদের মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সহায়তা হিসেবে।
তিনি দাবি করেন, বাংলায় বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে এবং ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তোলা হয়েছে।


শিল্প, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে জোর
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এমএসএমই ক্ষেত্রে বাংলা দেশে শীর্ষস্থানে এবং প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ এই খাতে যুক্ত। রঘুনাথপুরে ‘জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী’ প্রকল্পে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৯৯.৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং স্বাস্থ্যসাথীসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হবে।
রাজনৈতিক বার্তা ও নির্বাচনী আহ্বান
তৃণমূল কর্মীদের “গণতন্ত্রের যোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনের আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় সংস্থার ভয়ের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদনও করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি নবরাত্রি ও রমজান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “বাংলার ঐক্য, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে।”
ইদের পর দলীয় প্রচার শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *