1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা
২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হচ্ছে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন,
“শান্ত এলাকায় মাঝরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে বিজেপির কথায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে। তৃণমূলের বুথ এজেন্ট ও দক্ষ কর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতারের পরিকল্পনা চলছে। তার থেকে বরং কয়েকটা ট্যাঙ্ক নামান রাস্তায়, আমরাও দেখি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী “দমন-পীড়ন, ভয় দেখানো ও সন্ত্রাসের” পরিবেশ তৈরি করছে। শুধু তৃণমূল কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলেন।
তৃণমূলের দাবি, এই পরিস্থিতিতেও তারা বিপুল আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য রাজ্যের দায়িত্ব নেবেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আর কত নীচে নামবে বিজেপি?”—এবং অভিযোগ করেন যে ইডি, সিবিআই ও এনআইএ-র মাধ্যমে বিরোধী প্রার্থীদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
এদিন একবালপুর-এর ঘটনাতেও সরব হন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, রাকেশ সিং-এর প্রচারকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ৫ জন বিজেপি কর্মী। ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং অভিযোগ উঠেছে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও পুলিশকে বাধা দেওয়ার।
পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্ফোরক দাবি করেন তৃণমূল নেতা রিজু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া করে তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়াও বিজেপি নেতা প্রলয় পাল-এর বিরুদ্ধে ওঠা অশালীন আচরণের অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও সেই সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ্যে দেখাতে চাননি তাঁরা, তবে বিষয়টি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সমগ্র ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে, প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে চরম চাপানউতোর।