1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত,কলকাতা :বাংলার সংস্কৃতিতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সহাবস্থানের যে ঐতিহ্য, তারই প্রতিফলন দেখা গেল কলকাতা পুরসভার দাওয়াত-এ-ইফতার অনুষ্ঠানে। Kolkata Municipal Corporation-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবের আবহে অংশ নেন, তুলে ধরেন সম্প্রীতির বার্তা।
প্রতিবছরের মতো এবারও পুরসভার উদ্যোগে এই ইফতার আয়োজন করা হয়। মেয়র Firhad Hakim-এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ Sudip Bandyopadhyay, Mala Roy, June Malia-সহ একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়ক।
উন্নয়ন ও পাশে থাকার বার্তা
অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মাবলম্বী সংগঠনগুলির একাধিক নেতৃত্ব বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর আমলে তাঁদের সম্প্রদায়ের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ধর্মীয় উপাসনাস্থল নির্মাণে প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাকিবিল্লাহ মোল্লা বলেন, শুধু একটি নয়—রাজ্যের সব সম্প্রদায়ের দাবি মেনে উন্নয়নের কাজ চলছে। তাঁর কথায়, “বাংলা আজ সম্প্রীতির বাস্তব উদাহরণ।”
সর্বধর্মের উপস্থিতি
এই ইফতার অনুষ্ঠানে শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বী নয়, বৌদ্ধ, জৈন, শিখসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রীতির এই বার্তাকেই বাংলার শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
কলকাতার ষোলআনা মসজিদের ইমাম আব্দুল হামির বক্তব্যে হজযাত্রীদের সুবিধার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তাঁর দাবি, বাংলার হজযাত্রীরা অন্যান্য অনেক রাজ্যের তুলনায় বেশি প্রশাসনিক সহায়তা পান।
সম্প্রীতির বার্তা
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজ্যের সামাজিক ঐক্য নষ্টের যে কোনও প্রচেষ্টা রুখে দিতে হবে। ধর্মীয় বিভাজনের বদলে সহাবস্থান ও উন্নয়নের পথেই এগোচ্ছে বাংলা—এটাই এই ইফতারের মূল বার্তা।

কলকাতা পুরসভার এই আয়োজন ফের একবার দেখিয়ে দিল, উৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক।