1
1
সুমিত দে, কলকাতা:পুলিশি জীবনে নানা রকম অভিজ্ঞতা আসে। তবে এমন ঘটনা সচরাচর শোনা যায় না। ডিউটির মাঝেই পুলিশের স্ট্রেচারে জন্ম নিল এক নবজাতক। বিরল এই ঘটনার সাক্ষী রইলেন ডায়মন্ড হারবার রোড ট্র্যাফিক গার্ডের সার্জেন্ট কৌশিক নস্কর ও তাঁর টিম।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, বিকেল প্রায় পাঁচটা। বেহালা চৌরাস্তা এলাকায় তখন চরম ব্যস্ততা। প্রতিদিনের মতো ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিলেন সার্জেন্ট কৌশিক নস্কর, কনস্টেবল বাবলু হালদার ও গৌতম রায় এবং সিভিক ভলান্টিয়ার সুজন মণ্ডল। সেই সময় হঠাৎ তাঁদের সামনেই বিকল হয়ে পড়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স।
অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে ছিলেন প্রসব যন্ত্রণায় কাতর এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি, ইন্সপেক্টর অমলেন্দু চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন সার্জেন্ট কৌশিক। অতি দ্রুত আর একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়। ওসি স্বয়ং ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন।
এদিকে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি করা হয় ‘গ্রিন করিডর’, যাতে নির্বিঘ্নে হাসপাতালে পৌঁছতে পারে অ্যাম্বুল্যান্স।
কিন্তু ঠিক সেই সময়ই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। মহিলা পুলিশকর্মীদের সহায়তায় যখন অন্তঃসত্ত্বাকে স্ট্রেচারে করে নামানোর প্রস্তুতি চলছে, তখনই প্রবল প্রসব যন্ত্রণার মাঝে স্ট্রেচারেই জন্ম নেয় এক ফুটফুটে শিশু। কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে পড়লেও দ্রুত নিজেদের সামলে নেন পুলিশকর্মীরা।
এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে মা ও সদ্যোজাতকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের তৎপরতায় বর্তমানে মা ও শিশু—দুজনেই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।

পুলিশি প্রশিক্ষণে এমন পরিস্থিতির জন্য আলাদা অধ্যায় না থাকলেও মানবিকতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিলেন ডিউটিতে থাকা এই পুলিশকর্মীরা। তাঁদের এই তৎপরতায় এক নবজাতকের পৃথিবীতে আগমন হয়ে রইল চিরস্মরণীয়—“জন্মস্থান, পুলিশের স্ট্রেচার।”
পুলিশকর্মীদের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসায় সরব স্থানীয়
