Popular Posts

পশ্চিম এশিয়া ইস্যুতে উত্তপ্ত লোকসভা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ, দফায় দফায় মুলতুবি অধিবেশন

সুমিত দে,নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবিতে সোমবার তুমুল অচলাবস্থার সৃষ্টি হল লোকসভায়। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনেই তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভে বারবার মুলতুবি করতে হয় সভা। শেষ পর্যন্ত দিনের মতো অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
অধিবেশন শুরু হতেই পশ্চিম এশিয়ার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা চেয়ে সরব হন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের দাবি ছিল, কেন্দ্র সরকারের তরফে শুধুমাত্র বিবৃতি নয়, পূর্ণাঙ্গ আলোচনা প্রয়োজন। তবে সরকারপক্ষ সেই দাবিতে সম্মতি না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধীরা।
বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সংসদের দুই কক্ষে পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিলেও বিরোধীদের মতে তা ছিল ‘দায়সারা’। এর প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (সপা), ডিএমকে ও শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র সাংসদরা লোকসভার ওয়েলে নেমে স্লোগান ও বিক্ষোভ শুরু করেন। সেই সময় সভা পরিচালনা করছিলেন জগদম্বিকা পাল। তাঁর বারবার অনুরোধেও বিক্ষোভ থামেনি।


পরিস্থিতি সামাল দিতে লোকসভা প্রথমে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, পরে বিকেল ৩টে পর্যন্ত এবং শেষে দিনের মতো মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। ফলে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের পূর্বনির্ধারিত অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা আর করা সম্ভব হয়নি।
বিরোধীদের অভিযোগ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে পড়ছে, অথচ পেট্রোল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান জানাচ্ছে না। সংসদের ভিতরে এই ইস্যুতেও স্লোগান তুলতে দেখা যায় বিরোধী সাংসদদের।
অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার পর বিরোধী সাংসদরা সংসদ ভবনের মকরদ্বারের সামনে ব্যানার হাতে প্রতিবাদে সামিল হন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের নীরবতার অভিযোগ তুলে ধরনায় যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও মমতাবালা ঠাকুর।


এর আগে সকালেই সংসদ ভবনে বিরোধী শিবিরের বৈঠকে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের লোকসভার উপদলনেতা শতাব্দী রায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা— এই তিন বিষয়েই সংসদে বিস্তারিত আলোচনা দাবি জানানো হবে।
বিরোধীদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্র সরকার পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা রূপরেখা সামনে আনেনি। তাই সংসদে আলোচনা ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তাঁদের এই প্রতিবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *