1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, নদিয়া
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নদিয়ার নাকাশীপাড়ার বেথুয়াডহরি জে.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে জনসভা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন, তেমনই বিজেপি ও কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। তুলে ধরলেন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও।

গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যসমূহ
* আমার সঙ্গে আছেন পলাশিপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রুকবানুর রহমান। নাকাশিপাড়ার প্রার্থী কল্লোল খাঁ, কালিগঞ্জের প্রার্থী আলিফা আহমেদ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাস, কৃষ্ণনগর উত্তরের প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্য, তেহট্টের প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার, চাপড়ার প্রার্থী জেবের শেখ এবং করিমপুরের প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী।
* আমি বহুবার নাকাশিপাড়া ও কৃষ্ণনগরে এসেছি। এখান থেকে ইসকন খুব কাছে। ইসকন টাউনশিপের জন্য আমরা ৭০০ একর জমি দিয়েছি। সেখানে হেলিপ্যাডও হবে, ব্যবসারও উন্নতি হবে। এটি চৈতন্যদেবের ভূমি এবং বাংলার বহু মণীষীর জন্মভূমি।
* এই জেলা হস্তশিল্প ও শাড়ির জন্য বিখ্যাত। নবদ্বীপ ধামকে হেরিটেজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সরপুরিয়ার জন্য ‘সর তীর্থ’ তৈরি হয়েছে। কল্যাণীতে এইমস তৈরি করতে আমরা ১০০ একর জমি বিনামূল্যে দিয়েছি এবং রাস্তার পরিকাঠামোর জন্য ৩০০ কোটি টাকা খরচ করেছি। কল্যাণীতে ফ্লিপকার্ট আন্তর্জাতিক হাব তৈরি করেছে, বহু যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
* আমরা ব্রাস ক্লাস্টার, মসলিন তীর্থ, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের সংস্কার, পানীয় জল প্রকল্প, রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করেছি। কলেজ, ইংরেজি মাধ্যমের মডেল মাদ্রাসা, ব্লাড ব্যাঙ্ক, স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
* সিরাজ-উদ-দ্দৌলার ঐতিহাসিক ভূমির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই মাটিতে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রাণ দিয়েছেন। পলাশিপাড়ায় স্মারক ও মিউজিয়াম সংস্কার করা হয়েছে এবং পর্যটন সার্কিট তৈরি হয়েছে।

* ‘পথসাথী’, কিষাণ মান্ডি, কর্মতীর্থ, পলাশিপাড়া থানা, তেহট্ট স্টেডিয়াম সংস্কার, কৃষ্ণনগরে কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়, আইটিআই ও পলিটেকনিক, কল্যাণীতে আইআইআইটি—বহু শিক্ষা ও শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
* একজন BLO রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের চাপে ওই ঘটনা ঘটেছে।
* প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে বলেন, সীমান্ত রক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব। অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলার আগে কেন্দ্রের নিজের ব্যর্থতার জবাব দেওয়া উচিত।
* পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কলকাতা নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বাংলাকে লক্ষ্য করে কেউ কথা বললে বাংলা চুপ থাকবে না।
* ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, বাংলার নির্বাচনের আগে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
* খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, বাঙালিরা মাছ-ভাতই খাবে, কেউ তাদের কী খাবে তা ঠিক করে দিতে পারে না।
* নির্বাচন কমিশন, ইডি ও সিবিআইকে কেন্দ্রের ‘হাতিয়ার’ বলে অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে।
* প্রায় ৫০০ সরকারি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং প্রশ্ন তোলেন বহিরাগতদের দিয়ে বাংলার নির্বাচন করানো হচ্ছে কেন।
* বাংলার মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষার ডাক দেন তিনি। বলেন, বিজেপিই সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।
* ইভিএম কারচুপির সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক থাকতে বলেন কর্মী-সমর্থকদের। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বুথ ছেড়ে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
* লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, যুবসাথী, কৃষকবন্ধু, ছাত্রদের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে এই প্রকল্পগুলি কখনও বন্ধ হবে না।
* কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মধ্যেও ১.২ কোটি মানুষকে পাকা বাড়ি দেওয়ার দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে প্রতিটি বাড়িতে পাইপের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন।
* বাংলায় এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় বার্তা দেন তিনি।
* তিনি জানান, ৮ এপ্রিল তিনি নিজে মনোনয়ন জমা দেবেন।
* স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য প্রতিটি জেলায় শপিং মল তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।