Popular Posts

নিউটাউনে জৈন মন্দির নির্মাণের আর্জি ট্রাস্ট গঠনের পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সুমিত দে,কলকাতা: বুধবার ভবানীপুরের এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—রাজ্য সরকার সরাসরি কোনও মন্দির নির্মাণ করতে পারে না। তবে নিউটাউনে জৈন মন্দির গড়ার ইচ্ছা থাকলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়কে ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেবে।
বহুত্বের বার্তা ভবানীপুরে
ভবানীপুর-এর অনুষ্ঠানে জৈন, শিখ, মুসলিম ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাংলার বহুত্ববাদ ও সম্প্রীতির বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভবানীপুর জাস্ট লাইক এ মিনি ইন্ডিয়া। এখানে সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন।”
তিনি জানান, সল্টলেক-এ ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মাইনরিটি সেন্টার তৈরি হচ্ছে, যেখানে সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অনুষ্ঠান করতে পারবেন। এদিন সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেট ও মাইনরিটি ভবনের উদ্বোধনও করেন তিনি।
‘ট্রাস্ট গঠন করুন, সরকার পাশে থাকবে’
অনুষ্ঠানের আগে জৈন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নিউটাউন-এ একটি জৈন মন্দির নির্মাণের আর্জি জানানো হয়। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“রাজ্য সরকার কোনও মন্দির নির্মাণ করতে পারে না। আপনারা ট্রাস্ট গঠন করুন। জমি বা অন্যান্য বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় বিষয় দেখে নেবে।”


এই আশ্বাসে জৈন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জৈন ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জৈন ধর্মের সঙ্গে বাংলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মহাবীর-এর উল্লেখ করে বলেন, “মান স্তম্ভ মানে অহিংসা। ছোটবেলা থেকে আমরা সব ধর্মেই অহিংসার শিক্ষা পেয়েছি। অহংকার রাখা উচিত নয়।”
এদিন তিনি জানান, সাড়ে আটশো কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হয়েছে। পাশাপাশি শহরে মাটির নিচে কেবল বসানোর কাজও শুরু হয়েছে।
উৎসব ও সম্প্রীতির বার্তা
রমজান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “সবাই শান্তিতে থাকুন।” সামনে দোল ও হোলি—সেই উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এবার বড় করে হোলি-দোল উৎসব করব, আমি ডান্ডিয়াও খেলব।”
শেষে গণতন্ত্র প্রসঙ্গে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি চাই গণতন্ত্র থাকুক। সত্যের জয় হোক।”
সারসংক্ষেপ:
নিউটাউনে জৈন মন্দির নির্মাণের দাবিতে সরাসরি সরকারি উদ্যোগ সম্ভব নয় বলে জানালেও, ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে উদ্যোগ নিলে প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও উৎসবের বার্তা তুলে ধরেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *