1
1
সুমিত দে,কলকাতা:রাজ্য সরকারি পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা খরচে বড় স্বস্তি এনে দিল নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (ডব্লিউবিএইচএস)-এর আওতায় ক্যাশলেস চিকিৎসার আর্থিক সীমা বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সোমবার অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেলের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা পাওয়া যেত। কিন্তু হৃদরোগের অস্ত্রোপচার, ক্যানসার চিকিৎসা বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় প্রায়শই এই সীমা অতিক্রম করায় অতিরিক্ত খরচ বহন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন বহু প্রবীণ পেনশনভোগী। সেই সমস্যার সমাধানেই নতুন উদ্যোগ প্রশাসনের।

নতুন নিয়ম কী বলছে
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, চিকিৎসার সম্ভাব্য ব্যয় ২ লক্ষ টাকার বেশি হলে পেনশনভোগী বা তাঁর প্রতিনিধি হাসপাতালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ‘সি-৭’ ফর্ম পূরণ করে আবেদন জানাতে পারবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসার প্রথম ১০ দিনের আনুমানিক খরচের হিসাব ও প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল নথি অর্থ দফতরে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পূর্ণ আবেদনপত্র জমা পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থ দফতরকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও উত্তর না এলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে এবং ক্যাশলেস চিকিৎসার সীমা বৃদ্ধি পাবে।
থাকছে কিছু শর্ত
তবে বর্ধিত সুবিধার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও আরোপ করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের চিকিৎসা খরচ এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে না। একবারে সর্বোচ্চ ১০ দিনের চিকিৎসা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার আবেদন করা গেলেও প্রতিবারই একই সময়সীমা প্রযোজ্য থাকবে।
স্বস্তিতে প্রবীণ পেনশনভোগীরা
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীদের বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমবে। দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থার ফলে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাও আরও সহজ ও দ্রুততর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।