Popular Posts

ভোটার তালিকা জটিলতা নিয়ে চাপানউতোর, দায় অস্বীকার করে সরব ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা

সুমিত দে,কলকাতা:ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন নাম ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার প্রশাসনিক স্তরেও প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরের একটি সমাজমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও ডব্লিউবিসিএস (একজিকিউটিভ) আধিকারিকদের সংগঠনের মধ্যে শুরু হয়েছে দায় চাপানো নিয়ে টানাপড়েন।


গত ২ মার্চ কমিশনের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের গাফিলতির কারণেই বহু আবেদন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে সরাসরি খারিজ করেছে ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউবিসিএসইওএ)।
সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা দিনরাত এক করে শুনানি গ্রহণ, নথিপত্র যাচাই এবং তথ্য আপলোডের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের দাবি, মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের ওপর দায় চাপিয়ে প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভারদের ভূমিকার কারণেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইআরও-দের দ্বারা নিষ্পত্তি হওয়া বহু মামলাই কোনও স্পষ্ট কারণ বা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই বারবার ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলেই বিপুল সংখ্যক আবেদন ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় আটকে রয়েছে।


আধিকারিকদের মতে, বিনা কারণে তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত অফিসারদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন প্রশাসনিক স্তরে এই প্রকাশ্য অসন্তোষ নির্বাচন কমিশনের জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। স্বচ্ছতা ও দায় নির্ধারণের প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত দায় কার ওপর বর্তাবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *