Popular Posts

শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা: নায়িকাকে বাঁচাতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়!

শ্রেয়া সেনগুপ্ত | কলকাতা
বাংলা মেগাসিরিয়ালের শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। সহশিল্পী শ্বেতা মিশ্র-কে বাঁচাতে গিয়ে সমুদ্রের জলে তলিয়ে যান তিনি। ঘটনায় শোকস্তব্ধ টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যান সহশিল্পী শ্বেতা মিশ্র। তিনি জলে পড়লেও উদ্ধার হন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি রাহুল। ঘটনাটি ঘটে ওড়িশার সমুদ্রতট এলাকায়। ঘটনার পর শুটিং দলের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ওড়িশা পুলিশ-এর অধীনস্থ তালসারি পুলিশ। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলের সমস্ত ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
রবিবার রাতে রাহুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সোমবার তালসারির স্থানীয়দের বক্তব্যে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে ঘটনার বিবরণ। স্থানীয়দের দাবি, যে জায়গায় শুটিং চলছিল সেখানে জলের গভীরতা তুলনামূলক বেশি ছিল।


শুটিংয়ের জন্য নিয়োজিত নুলিয়াদের দাবি, সতর্ক করা সত্ত্বেও গভীর জলে চলে গিয়েছিলেন রাহুল ও শ্বেতা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, সিরিয়ালের একটি দৃশ্যের জন্য গোড়ালি ভেজা জলে নাচের শুটিং চলছিল। ড্রোন ক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল। শুটিংয়ের সময় ধীরে ধীরে আরও সামনে এগিয়ে যান রাহুল ও শ্বেতা। ইউনিটের সদস্য এবং নুলিয়ারা তাঁদের বারবার সতর্ক করেন। তবে সমুদ্রের হাওয়ার শব্দে সেই সতর্কবার্তা তাঁদের কানে পৌঁছয়নি বলেই অনুমান।
হঠাৎই গভীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করেন শ্বেতা। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান রাহুল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও জলে তলিয়ে যান। জানা গেছে, দু’জনের কেউই সাঁতার জানতেন না।
উদ্ধার অভিযানে কী ঘটল
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হয়ে ওঠেন নুলিয়ারা। কাছেই থাকা নৌকা ডেকে প্রথমে শাড়িতে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় শ্বেতাকে উদ্ধার করা হয়।
ততক্ষণে প্রায় ছ’ফুট গভীর জলে তলিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল। কিছু সময় পরে তাঁকে জলের তলা থেকে উদ্ধার করে পাড়ে তোলা হয়। তখন তিনি অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন। দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধারকারীদের দাবি, তখনও তিনি সজ্ঞানে ছিলেন।


তদন্তে নতুন প্রশ্ন
এদিকে ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন উঠেছে শুটিং ঘিরে। ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, ওই জায়গায় শুটিংয়ের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছিল না। যদিও যে হোটেলে শুটিং ইউনিটের সদস্যরা ছিলেন, তাদের দাবি—প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই শুটিং করা হয়েছিল।
এছাড়া ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত নুলিয়া ও উদ্ধারব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও নুলিয়াদের দাবি, ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক যে আরও উদ্ধারকারী থাকলেও হয়তো দুর্ঘটনা ঠেকানো কঠিন ছিল।
ইতিমধ্যেই তালসারি পুলিশ শুটিং ইউনিটের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করা শুরু করেছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ভিডিও ফুটেজেও জলে ডুবে যাওয়ার ঘটনার প্রমাণ মিলেছে বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *